ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২৪: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তেজনার হাওয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন এবং সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র শীঘ্রই মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ছবিটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এটি হবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা নিয়ে তৈরি একটি বায়োপিক।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ চলচ্চিত্রটি মূলত খালেদা জিয়ার জীবনের উত্থান-পতন, রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই, এবং দেশের জন্য তার আত্মত্যাগকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে। ছবিটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন দেশবরেণ্য পরিচালক আব্দুল কাদের। আর চিত্রনাট্য লিখেছেন সুপরিচিত লেখক ও চিত্রনাট্যকার শফিক হাসান।
পরিচালক আব্দুল কাদের বলেন, “খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত। এই চলচ্চিত্রে আমরা একজন নারী নেত্রীর শক্তি, সাহস, এবং রাজনৈতিক জীবনের জটিলতাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী। তার বেগম খালেদা জিয়ার চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে মিডিয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। মেহজাবিন তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন, “খালেদা জিয়া একটি জাতীয় প্রতীক। তাকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা একটি চ্যালেঞ্জ, তবে আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরুর পর থেকেই এটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এই চলচ্চিত্রটি আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন, সংগ্রাম এবং দেশের জন্য তার অবদানের প্রতি সম্মান জানাবে। আমরা আশা করি, এটি মানুষকে নতুন করে গণতন্ত্রের প্রতি অনুপ্রাণিত করবে।”
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “চলচ্চিত্রটি যদি ইতিহাস বিকৃত করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করে, তবে তা অবশ্যই দেশের জনগণ মেনে নেবে না।”
তবে বিতর্কের বাইরে, চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ নিয়ে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন দিক উন্মোচন করবে।
চলচ্চিত্রটি মুক্তির তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই মুক্তি পাবে। এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর রাজনীতিতে, বিশেষ করে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারে।
এই ধরনের বায়োপিক চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জীবনের নানা অজানা দিক উন্মোচিত হয়। ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ যে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে, তা নিশ্চিত। ছবিটি রাজনৈতিক মহলে, বিশেষত বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন